ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শাকসগাম উপত্যকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারত উপত্যকাটিকে নিজের অখণ্ড অংশ দাবি করলেও, চীন সরাসরি এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, শাকসগাম তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড এবং সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করা তাদের সার্বভৌম অধিকার। চীনের এই অনড় অবস্থান হিমালয় সীমান্তের দীর্ঘদিনের বিরোধকে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলেছে। খবর দ্য ডন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, নিজেদের ভূখণ্ডে অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং ভারত যে সমালোচনা করছে তা ভিত্তিহীন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী এই অঞ্চলের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। অন্যদিকে, ভারত সেই চুক্তিকে অবৈধ এবং অকার্যকর হিসেবে দেখছে। নয়াদিল্লির মতে, জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ ভারতের অখণ্ড অংশ এবং সেখানে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ সহ্যযোগ্য নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকায় ভূ-বাস্তবতা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে না।
ভারতের দাবী, পাকিস্তান ও চীন অবৈধভাবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে বেইজিং দাবি করছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। ওই চুক্তির পর সরাসরি বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ভূখণ্ডের ওপর বিরোধ মুছে যায়নি।
বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ভারতের ও চীনের পাল্টাপাল্টি অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করার ঘটনায় ভারত বরাবরই ক্রমাগত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।































