বিয়ে ভাঙার মানসিক যন্ত্রণা, সঙ্গে বডি শেমিং গত এক বছরে একের পর এক ঝড়ের মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে স্মৃতি মন্ধানাকে। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে ফিনিক্স পাখির মতোই নতুন করে জ্বলে উঠেছেন তিনি।
মাঠে ব্যাট হাতে হোক কিংবা সোশাল মিডিয়ায়—সব জায়গাতেই আবার স্বমহিমায় ধরা দিচ্ছেন ভারতীয় নারী ক্রিকেটের এই তারকা।
দীর্ঘদিনের প্রেমিক পলাশ মুছলের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপ কাটিয়ে দ্রুতই মাঠে ফিরেছেন স্মৃতি। বিচ্ছেদের কষ্ট পেছনে ফেলে গত বছর শ্রীলঙ্কা সিরিজেই গড়েছিলেন বিশ্বরেকর্ড। নতুন বছরের শুরুতেও তাঁর ব্যাটে রয়েছে ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
বিশ্বজয়ের স্মৃতি নিয়ে উইমেনস প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমেছে স্মৃতির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আরসিবি। প্রথম ম্যাচে বড় রান না পেলেও সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন স্মৃতি।
ইউপি ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র তিন রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় তাঁর। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসে ছিল ৯টি বাউন্ডারি। কোনো ছক্কা না হাঁকালেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয় এনে দেন তিনি।
২২ গজের বাইরেও স্মৃতির কামব্যাক নজরকাড়া। বিশ্বজয়ের পর কিছু সময় সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সেই সময়েই তাঁর বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম ছিল নেটদুনিয়া। নিজের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সব পোস্টও মুছে ফেলেছিলেন স্মৃতি।
তবে বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পর ধীরে ধীরে আবার সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় হন তিনি। ইনস্টাগ্রামে একের পর এক গ্ল্যামারাস ছবি পোস্ট করে ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন স্মৃতি। তাঁর ফ্যাশন সেন্সে মুগ্ধ হন বহু অনুরাগী।
যদিও কটাক্ষও কম আসেনি। ওয়ানপ্লাসের একটি লঞ্চ ইভেন্টে সাদা গাউন পরা স্মৃতির ছবি ঘিরে কিছু নেটিজেন অশালীন মন্তব্য করেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত বিষয় টেনে এনে কটু কথা বলতেও পিছপা হননি।
তবে সমালোচনার মাঝেও স্মৃতির পাশে দাঁড়ান অসংখ্য সমর্থক। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর হয়ে জোরালো জবাব দেন অনুরাগীরা। নিজেও কোনো নেতিবাচক মন্তব্যে বিচলিত হননি স্মৃতি। শান্ত ও দৃঢ় মনোভাবেই সবকিছুর মোকাবিলা করেছেন তিনি।
বর্তমানে স্মৃতির সোশাল মিডিয়া প্রোফাইলে চোখ রাখলেই দেখা যায় আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক নারী ক্রিকেটারকে। কখনও ফটোশুট, কখনও বিভিন্ন ইভেন্ট—সবখানেই ফ্যাশনিস্তা হিসেবে উজ্জ্বল তিনি। সবুজ, কালো গাউন কিংবা দলের জার্সি—প্রতিটি লুকেই নজর কাড়ছেন ২২ গজের রানি।
বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও সাবলীল উপস্থিতি তাঁর। মাঠে যেমন প্রতিপক্ষ বোলারদের সামলান অনায়াসে, তেমনি ক্যামেরার সামনেও নিজেকে তুলে ধরছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। মাঠে ও পর্দায়—দুই জায়গাতেই যেন এক পরিপূর্ণ সুপারস্টার স্মৃতি মন্ধানা।
বিবাহবিচ্ছেদের কষ্ট সামলে মাঠে ফিরেই প্রথম সিরিজে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। মিতালি রাজ, শার্লট এডওয়ার্ডস ও সুজি বেটসের পর চতুর্থ নারী ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন স্মৃতি।
গত বছরের বিশ্বজয়ের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এখনও এই ট্রফির স্বাদ পায়নি উইমেন ইন ব্লু। সেই অধরা শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই আপাতত নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুতিতে ডুবিয়ে রেখেছেন স্মৃতি মন্ধানা।































