ইরানে সামরিক অপারেশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা
Published : ১৯:১৫, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান বিরল অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প নিয়ে অবহিত করেছেন।
পেন্টাগনের পরিকল্পনায় শুধু প্রথাগত সামরিক হামলা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি এবং বহুমুখী আক্রমণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করার জন্য উন্নত বিমান প্রযুক্তি ব্যবহার,
সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের মাধ্যমে ইরানি প্রশাসনের ভিত দুর্বল করার পরিকল্পনা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি চূড়ান্ত নীতি ঘোষণা করেছেন। এই নীতির আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালানো যেসব দেশ যেমন চীন, ভারত, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার চেয়ে বড় পদক্ষেপ বৈঠকের আগেই নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে ইরানে চলা বিক্ষোভ দমন অভিযানে ৬৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের শাহজাদা রেজা পাহলভি ট্রাম্পকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এই অস্থিরতার জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে কোনো দ্বিধা করবে না।
বিডি/এএন































