হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত, আগুন ধরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে
Published : ১২:০৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনে আঘাতের পর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। প্রতিটি ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা।
ইরনার প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, শনিবার প্রথম ট্যাংকারটি নৌ-মাইনে আঘাত হানলে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্বিতীয় ট্যাংকারটিও মাইনে আঘাত হানে, যার ফলে সেটিতেও আগুন ধরে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজ দুটির নাম কিংবা সেগুলোতে থাকা তেলের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরনার দাবি, ট্যাংকার দুটি নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং ইরানের অনুমোদনহীন একটি নৌপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, একটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে জলপথটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, আর অন্যটি চলাচলের অক্ষম অবস্থায় ছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে। এরপর থেকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমোদন নিতে হবে বলে জানিয়ে আসছে দেশটি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
চলতি সপ্তাহে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমায়ি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ তাদের নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিজস্ব নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এর আগে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে তেহরানের ঘোষিত ‘নিষিদ্ধ অঞ্চলে’ দুটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
এ ছাড়া সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সৌদি আরবের উপকূলসংলগ্ন উপসাগরীয় জলসীমায় দুটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়।































