শেখ হাসিনার বক্তব্যে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা হুমকিতে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শেখ হাসিনার বক্তব্যে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা হুমকিতে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:১৭, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার মনে করছে, এই ঘটনা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যে সরকার পতনের আহ্বান এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত করার লক্ষ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তার দলীয় অনুসারীসহ সাধারণ জনগণকে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আহ্বান জানান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। বরং নিজ ভূখণ্ডে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা—সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের—পরিপন্থি। এই ঘটনা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এমন বেপরোয়া ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন-পূর্ব সময় ও নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পূর্ণ দায় আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement