ইরানের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সংস্থার প্রধান বেহজাদ আকবরি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই—সম্ভবত আজ অথবা আগামীকাল—দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা আবার চালু করা হবে। শনিবার দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে ফারস নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি প্যারিস থেকে জানায়, শুক্রবার রাতেই ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইন্টারনেট পুনঃসংযোগের অনুমোদন দিয়েছে এবং বিষয়টি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেহজাদ আকবরি বলেন, ইনশাআল্লাহ আজ অথবা কালকের মধ্যেই এই সংকটের সমাধান হবে।
ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বল্প সময়ের জন্য চালু হলেও প্রায় আধা ঘণ্টা পর তা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসও এই সাময়িক সংযোগ ফিরে আসার তথ্য নিশ্চিত করেছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরি সমস্যার কারণে পুরোপুরি সংযোগ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরুর পর ইরান কার্যত বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই সময়ের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান চালায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এসব অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ইরান সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন, যার মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে তারা ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইন্টারনেট পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারি উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ানও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে জনগণ ও সরকারের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়বে। এমনকি যারা আগে অসন্তুষ্ট ছিলেন না, তারাও সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট চালু হলে আবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার।

































