বিএনপির ২৯২ প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জনই উচ্চশিক্ষিত

বিএনপির ২৯২ প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জনই উচ্চশিক্ষিত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন।

মাহদী আমীন বলেন, বিএনপির সব প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৮৫ জন ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এছাড়া, ১৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রার্থীদের এই রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের স্বকীয়তা রয়েছে। ২৩৭ জন প্রার্থী ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সর্বোচ্চ সংখ্যক, অর্থাৎ ১০ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এটি নারীর ক্ষমতায়নে দলের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। মাহদী আমীন বলেন, এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি করার অঙ্গীকার রয়েছে।

তিনি এও উল্লেখ করেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও কিছু রাজনৈতিক দল একমাত্র নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি, যা হতাশাজনক ও দুঃখজনক।

বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। এ কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট কর্তৃক নির্যাতিতদের সংখ্যাও বেশি।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, গুম হওয়া প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এছাড়া, গুম হওয়া পরিবারের দুইজন সদস্যও প্রার্থী হয়েছেন; সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিন রুশদির লুনা এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও ‘মায়ের ডাক’ সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।

মাহদী আমীন অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট ও ভিডিও নজরে এসেছে। ধর্ম ও বিশ্বাসের অপব্যাখ্যা করে ভোট প্রভাবিত করার এই চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মাহদী আমীন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement