বুলবুল আইসিসির বৈঠকে মেজাজ হারিয়েছিলেন

বুলবুল আইসিসির বৈঠকে মেজাজ হারিয়েছিলেন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:২০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে এই আসর থেকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আইসিসি বাংলাদেশকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দিয়েছিল।

তবে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই বৈঠকে আবেগ সামলাতে না পেরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল মেজাজ হারান, যা বৈঠকে সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বোর্ড পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। আইসিসির পক্ষে প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে রাজি না হয়, তবে তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান বিসিবি সভাপতি বুলবুল এবং একপর্যায়ে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করেন। আইসিসি তার এই প্রতিক্রিয়া গ্রহণে সন্তুষ্ট হয়নি।

পরে সংযোগ গুপ্ত বিসিবিকে পরামর্শ দেন, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করুন, এবং নতুন করে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি বৈঠকে বসে আগের অবস্থানেই অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়; তারা ভারতে কোনো ম্যাচ খেলবে না।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার পর, আইসিসি গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, বিসিবির উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই পর্যালোচনায় ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আইসিসি দাবি করেছে।

আইসিসি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভারতে নির্ধারিত ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির উদ্বেগ নিরসনে আইসিসি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স এবং সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে একাধিকবার আলোচনা করেছে।’

আইসিসি আরও জানিয়েছে, ‘এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বিসিবির উল্লেখিত উদ্বেগগুলো পর্যালোচনা করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন গ্রহণ করেছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের ব্যবস্থা এবং ইভেন্টের জন্য উন্নত নিরাপত্তা প্রোটোকলসহ বিস্তারিত নিরাপত্তা ও অপারেশনাল পরিকল্পনা শেয়ার করা হয়েছে। আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন বোর্ডের আলোচনা চলাকালীন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে এসব নিশ্চয়তা বারবার প্রদান করা হয়েছিল।’

আইসিসি আরও জানিয়েছে, ‘আমাদের মূল্যায়নে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, ভারতে বাংলাদেশ জাতীয় দল, কর্মকর্তা বা সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।

এই ফলাফল এবং সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করে, প্রকাশিত ইভেন্ট সূচি সংশোধন করা সমীচীন নয়। আইসিসি টুর্নামেন্টের সূচি, অংশগ্রহণকারী সব দল ও ভক্তদের স্বার্থ এবং ইভেন্টের নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা রক্ষা করার গুরুত্ব বিবেচনা করে এমন কোনো precedent সৃষ্টি এড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement