যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর এবার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের কীভাবে ভিসা প্রদান করা হবে, সে সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্প্রতি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে।
এই নির্দেশনার আলোকে জানা গেছে, বাংলাদেশিরা সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা পাবেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত ঘোষণা করেছিল। এছাড়াও, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে ভিসা বন্ড কীভাবে কাজ করবে তার বিস্তারিত নিয়মাবলী নিম্নরূপ:
ক। ভিসা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।
খ। ভিসা ইন্টারভিউ শেষে যদি প্রার্থী যোগ্য হন, কনসুলার কর্মকর্তা তাকে pay.gov–এর সরাসরি লিঙ্কসহ বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।
গ। ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে।
ঘ। সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা প্রদান করা হবে।
ঙ। ভিসাধারীকে নির্ধারিত তিনটি পোর্ট অব এন্ট্রির মধ্যে একটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
চ। দেশে ফিরে আসার পর ভিসার সব শর্ত পূরণ করলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর মধ্যে শর্ত হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনভাবে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসা।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে, বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করা যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান করে (ওভারস্টে)। মূলত, সেই দেশের নাগরিকদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের দেশে ফিরে না আসার হার বেশি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য কেবল তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। এই তিনটি বিমানবন্দর হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। অন্য কোনো পথ ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হওয়া হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল এবং উগান্ডা এই তালিকায় রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জন্য এই নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে কার্যকর হচ্ছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তি আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ভিসা বন্ড মূলত এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে নির্দিষ্ট জামানত নেওয়া হয়, যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত মেয়াদ, মেনে চলে।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রদান করে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, অধিকাংশ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চাই, কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, কিন্তু পরে তা বাতিল করে। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালু করার উদ্যোগ নেয়, পরে তা বাতিল হয়।































