বিমান বাংলাদেশের সাবেক এমডিসহ ৪ জন রিমান্ডে
Published : ১৬:৪৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার আদালত ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন শুনানি শেষে শফিকুর রহমানের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একই মামলায় দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমেরও রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং সুফিয়া বেগমের ছয় দিন রিমান্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কারাগারে থাকা শফিকুর রহমান ও চারজন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ প্রহরায় তাদের আদালতে আনা হয়। এরপর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করেন, আর রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া মামলার তদন্তে তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এরপর শুনানির জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান যে, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজছে।
পরে তারা মোস্তফার মাধ্যমে ছোট মেয়ে মোহনাকে বাসায় রাখার জন্য সম্মত হন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে নেয়া হয়।
মোহনাকে তার পরিবারে সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান যে মোহনা অসুস্থ। এরপর মোহনাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় গোলাম মোস্তফার কাছে। মোফসত দেখেন, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মোহনাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলতে পারে না।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর মোস্তফার সাথে দেখা করার পর থেকে শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামি তাকে মারপিট করেছেন।
এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে খুন্তি, আগুনে গরম করার মতো নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় হোটেল কর্মচারী এবং মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
বিডি/এএন



























