‘জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে’

‘জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে’ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী দিনে আল্লাহর মেহেরবানিতে জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা কোনো ধরনের বৈষম্য করব না, আল্লাহকে ভয় করে দেশ পরিচালনা করব।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গকে বলা হয় বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়। যারা সারা দেশের মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করে, তারা কখনো গরিব হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ও ধুরন্ধরদের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ যুগের পর যুগ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে উত্তরবঙ্গের যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা ও ইনসাফভিত্তিক শাসন থাকলে উত্তরবঙ্গ আজ বাংলাদেশের কৃষির রাজধানী হতো।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যদি সহজ শর্তে, বিনা লাভে ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালিত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেত এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা আর তাদের ঘাম ঝরানো ফসল লুটে নিতে পারত না। কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নয়, মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলীয় ঐক্যের একটি ঠিকানাকে ভোট দিন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

তিনটি শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে এই তিনটি শর্ত মানতে হবে-
১. কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না এবং দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
২. গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না; বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে।

তিনি বলেন, ৫৪ বছরের পচাগলা রাজনীতি ও বৈষম্য পরিবর্তন করতে হলে সকল ধরনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। 

আমীরে জামায়াত বলেন, যারা চাঁদাবাজদের সমর্থন করে না এবং নিজেরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয় বরং চাঁদাবাজদের রুখে দিতে শপথবদ্ধ-তাদেরই নির্বাচিত করুন। যাদের হাতে কোনো ধর্মগুরু, কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষ নির্যাতিত হবে না। যারা ক্ষমতায় গেলে বিদেশে বন্ধু খুঁজবে, কিন্তু প্রভু বানাবে না। ঐক্যভিত্তিক সমাজ গড়ার শপথ নেওয়া সেই ১০ দলীয় ঐক্যকেই নির্বাচিত করুন। 

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গকে গৌরবের কৃষির রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে, যাতে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।

এ অঞ্চলের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে একটি করে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করা হবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশিরা পারলে আমরাও পারব।

তিনি আরও বলেন, চাকরিতে প্রবেশের আগে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করে তাকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। আমরা বেকারভাতা দিতে চাই না, কাজ দিতে চাই। বেকারভাতা অপমানজনক; আমরা সম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই। আমরা জাতিকে বেকার বানাতে চাই না।

জনসভায় আমীরে জামায়াত ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেন— ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মাস্টার মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, কিছু দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজের হাতে দেশের উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পিলখানা, হেফাজত, সাঈদী হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার জনগণ পায়নি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে আসে। শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে দেশের মুক্তির পথ সুগম করেছেন।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। সিন্ডিকেটের হাতে বাংলাদেশ আবারও বন্দী হয়ে পড়েছে। তেজগাঁও কলেজে একদল ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী একজন ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আরেকটি ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক সোহেল রানা, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ), সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা যতীশ বাবু, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রকিবুল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি সাঈদ আহমেদ সাইফী। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধান।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement