ধানের শীষে ভোট দিলেই বদলাবে মানুষের ভাগ্য: তারেক রহমান
Published : ১৭:৫৬, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
গণতন্ত্রের পথচলা শুরু এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শেরপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষে ভোট চেয়ে এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে একটি রাজনৈতিক দল দেশকে পরাধীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, আর গত ১৬ বছরে আরেকটি দল একইভাবে দেশকে অন্যের কাছে বন্ধক দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে, গণতন্ত্রের সূচনা করতে হলে এবং মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন ঘটাতে হলে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ৫০ বছর আগেও মানুষ দেখেছে। এখন তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মা-বোনদের বাড়িতে গিয়ে তথাকথিত জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। এটি কেবল মুনাফেকি নয়, বরং সরাসরি শিরকের পর্যায়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে যারা মানুষ হত্যা করেছিল, তারাই আজ নানা কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে মানুষকে ঠকাচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে কীভাবে জনগণকে প্রতারিত করবে—সে বিষয়টি সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।
এর আগে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে নিজের প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশকে বিদেশি প্রভাবের কাছে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সে কারণেই তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, কোনো অন্য দেশ নয়; সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে, আর বিএনপি এই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে গত ১৬ বছরে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এই সময়কালে ব্যালট ছিনতাই, ডামি নির্বাচন ও নিশিরাতের ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা পালিয়ে গেছে এবং যারা মানুষের ভোট ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, তারাই ইলিয়াস আলীর মতো অসংখ্য মানুষকে গুম ও হত্যার শিকার করেছে। গুম-খুনের মামলা দিয়ে দেশকে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছিল।
২০২৪ সালে লাখ লাখ মানুষের এই গণজমায়েতের পেছনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের গণতন্ত্রকামী মানুষ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণ আবারও স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি। দেশে ও বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছে, ভবিষ্যতেও তা পারবে।
শেষে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনের অর্ধেক লক্ষ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে দেশ। গণতন্ত্রের পূর্ণ যাত্রা শুরু হবে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে নবিজির ন্যায়ের আদর্শে দেশ পরিচালনা করা হবে।
বিডি/এএন






























