এবার সিইসির কাছে ‘নালিশ’ দিলো জামায়াত

এবার সিইসির কাছে ‘নালিশ’ দিলো জামায়াত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:৪২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রার্থীর অধিকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষত, নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দলের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব সমস্যা তুলে ধরেন।

প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামসহ আরও চারজন।

সাক্ষাতের পর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে নারীরা প্রচারণায় নামলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা চালানো হচ্ছে।

অনেকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, নেকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং নারী কর্মীদের অপদস্থ করা হচ্ছে। নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক, তবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের যে নির্দেশনা ইসি দিয়েছে, তা কার্যকরভাবে দৃশ্যমান হয়নি। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক এবং মূলত কেন্দ্রের বাইরের দিকে মুখ করা।

জামায়াত আশা করছে, কেন্দ্রের ভেতরেও ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের জানান, তাদের দলের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীর নিশ্চয়তা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রার্থী নির্বাচন তৃণমূলের পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়।

নারীরা রাজনীতিতে ৪ শতাংশের বেশি সক্রিয় হলেও পারিবারিক ও সামাজিক কারণে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে আগামী নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের সময়সীমা নিয়েও সংশয় দূর করে তিনি বলেন, ৩০ বা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঠানো ব্যালট ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছালে গ্রহণযোগ্য হবে বলে ইসি আশ্বস্ত করেছে। এছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একপাক্ষিক আচরণের বিষয়েও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

জুবায়ের আশাপ্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং সমান সুযোগের নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement