আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা
Published : ১১:১২, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন এবং অনেকেই রাত জেগে পূজা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। এ পূর্ণিমা কোজাগরী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও অনেকে প্রতি বৃহস্পতিবার দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করেন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজার প্রচলন রয়েছে। সাধারণত ঘটে বা প্রতিমায় দেবীর পূজা করা হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সর্বজনীনভাবেও এ পূজার আয়োজন করা হয়।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। তিনি উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত। তাঁর কৃপায় সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে—এমন বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা দেবীর আরাধনা করেন।
দেবী লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতীর্ণ হলে লক্ষ্মী সীতা ও রাধারূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আগমন করেন এবং তাঁদের ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ করেন। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গৃহস্থের মধ্যে লক্ষ্মীপূজার প্রচলন রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হচ্ছে ২৫ অক্টোবর, রোববার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।
দেবী লক্ষ্মীকে ঘিরে বাংলার জনসমাজে নানা জনপ্রিয় কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। এসব কাহিনি পাঁচালি আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত।
লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মধ্যে রয়েছে সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও জল। পূজার সাজসজ্জায় মঙ্গলঘট, ধানের ছড়া এবং চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। অনেক গৃহস্থের বাড়ির আঙিনায় দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ এঁকে শুভ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
‘কোজাগরী’ শব্দটি ‘কে জাগরী’ বা ‘কে জেগে আছো’—এই ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে দেবী লক্ষ্মী গৃহে গৃহে বিচরণ করেন। যেসব বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে এবং গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে দেবী ফিরে যান বলে বিশ্বাস করা হয়। এ কারণে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় রাত জেগে থাকার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে অনেক হিন্দু নারী-পুরুষ উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, আঙিনায় আলপনা আঁকা এবং দেবীর কাছে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।



































