অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জ্বালানি সংকট: তিতুমীর

অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জ্বালানি সংকট: তিতুমীর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক জ্বালানি সংকটকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ইএসজি ডেটা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে গত আট মাসে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হলে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। এ উদ্যোগে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আগামী পাঁচ বছর একই করহার বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. তিতুমীর। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থায়ন, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন। বাণিজ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্য ও রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা এবং যুব ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান পোশাকশিল্পের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আবারও সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন না হয়।

উদ্বোধন করা ইএসজি ডেটা প্ল্যাটফর্মে পোশাক কারখানাগুলো পরিবেশগত প্রভাব, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং সরবরাহব্যবস্থাসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা দিতে পারবে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতের ঝুঁকি শনাক্ত করা, সরবরাহব্যবস্থার যাচাই-বাছাই জোরদার করা এবং সরকারের সময়োপযোগী নীতি প্রণয়ন সহজ হবে বলে জানান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement