পূর্ববিরোধের জেরে হামলা, গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী

পূর্ববিরোধের জেরে হামলা, গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫৩, ১ জানুয়ারি ২০২৬

থার্টিফার্স্ট নাইটের প্রায় মধ্যরাতে, আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় (পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড) ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটে।

বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে মো. শফিকুল ইসলামের জমজ সন্তানদের একজন, ১২ বছর বয়সী শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি সিফাতের পেটের উপরের অংশে, বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে আঘাত হানে। এতে তার শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে সিফাতের মা আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দ্রুত তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আজম শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করেন। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি দ্রুত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকারকে ডেকে আনেন। সৌভাগ্যক্রমে, সিনিয়র এই চিকিৎসক তখন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

ডা. রাজীব দে সরকার শিশুটিকে পরীক্ষা করে দেখতে পান, এটি একটি গুরুতর গানশট ইনজুরি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার ধারণা হয়, গুলির আঘাতে শিশুটির খাদ্যনালীর একটি অংশে পারফোরেশন হতে পারে এবং সে ইতোমধ্যে হাইপোভলিউমিক শকে চলে গেছে। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুটির জীবন সংকটের মুখে পড়তে পারে—এ বিষয়টি বুঝে তিনি দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

এরপর ডা. নুরুল আজম ও ডা. রাজীব দে সরকারের দীর্ঘক্ষণব্যাপী নিরলস চেষ্টা এবং দক্ষ চিকিৎসায় ধীরে ধীরে শিশুটির জ্ঞান ফিরে আসে। চিকিৎসকরা রিসাসিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে শঙ্কামুক্ত করেন এবং তার গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণগুলো (ভাইটাল সাইনস) স্থিতিশীল করেন। এ সময় জরুরি বিভাগের সকল সেবিকা ও কর্মচারী একযোগে চিকিৎসা সহায়তায় অংশ নেন, যার ফলে শিশুটি হাইপোভলিউমিক শক থেকে ফিরে আসে।

শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “বালুমহল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে আমাদের বাড়ির আশপাশে ভাঙচুর ও গুলি বিনিময় হচ্ছিল। সেই সময়ই আমার ছেলের পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা যদি সময়মতো চিকিৎসা শুরু না করতেন, তাহলে হয়তো আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতাম না।”

শিশুটির বাবা বলেন, “আমার সন্তানের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আমরা আইনগত সহায়তা গ্রহণ করবো।”

ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement