টিকটকার প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

টিকটকার প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৫৮, ১ জানুয়ারি ২০২৬

লাইলা আখতার ফরহাদকে বাসায় ঢুকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ওইদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামি প্রিন্স মামুন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশিকুল ইসলাম সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। অপরদিকে মামলার বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ আদালতে হাজির হয়ে আসামির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান।

শুনানিকালে মামুনের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৫ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) আদালতকে জানান, আসামির বিরুদ্ধে অন্য একটি আদালতে ধর্ষণ মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলাটি তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য আসামি বাদীর বাসায় প্রবেশ করে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এ কারণে জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়।

শুনানি শেষে লায়লা আখতার বলেন, তিনি আদালতে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনে জীবনের শেষ দিন পর্যন্তও এই মামলা চালিয়ে যাবেন। তার অভিযোগ, প্রিন্স মামুন একজন কিশোর গ্যাং লিডার এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে লায়লার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মামুন নিয়মিতভাবে তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। চলতি বছরের ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসে অবস্থিত লায়লার বাসায় যান এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা ও একটি জিডি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন।

লায়লা এতে রাজি না হলে মামুন লাইভে গিয়ে তাকে, তার মা ও সন্তানদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে লাইভ বন্ধ করে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করেন এবং ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। এ সময় লায়লা ছুরি ধরে ফেলায় তিনি আহত হন।

এই ঘটনার পরই লায়লা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই আতিকুর রহমান সৈকত প্রিন্স মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement