ভাঙ্গায় শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে জেন-জি কার্নিভাল অনুষ্ঠিত 

ভাঙ্গায় শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে জেন-জি কার্নিভাল অনুষ্ঠিত  ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৫১, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের উদ্যোগে জেনারেশন জেড (জেন-জি) কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার পশ্চিম হাসামদিয়া ওয়াটার ওয়ার্ল্ড পার্কে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় সম্মিলিত জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফুড এন্ড হেলথের পরিচালক সাংবাদিক ওবায়দুল রহমান। পরে আগত অতিথিদের কাছে উন্মুক্ত প্রশ্ন আহ্বান করা হয়।

এসময় তরুণরা বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে অতিথিদের কাছে প্রশ্ন করেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সদরপুরের তরুণ উদ্ভাবক  মারুফ মোল্লার তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, তরুণদের নিয়ে এমন একটা অনুষ্ঠান আমাদের আজ একটা পার্কে করতে হচ্ছে। এই এলাকায় এমন একটা অডিটোরিয়াম নেই যেখানে আমরা এই অনুষ্ঠানটি করবো।

অথচ গত ১৭ বছর এমন কথা হয়েছে যেন এই এলাকা ইউরোপ আমেরিকা হয়ে গেছে। তবে নির্বাচন করতে না গেলে আমি জানতাম না এখানে পদ্মা সেতু আর হাইওয়ে ছাড়া আর তেমন কোনো কাজই হয়নি। এর প্রমাণ চাইলে আপনি গ্রামে গঞ্জে ঘুরে দেখেন।

তরুণদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ধানের শীষের এই কাণ্ডারী বলেন, এই তরুণরা পৃথিবী বদলে দিতে পারে। তবে এমন না তরুণরা সব করবে। তরুণের শক্তি আর প্রবীণের অভিজ্ঞতা দেশকে একটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলকে তরুণরা কেন ভোট দেওয়ার জন্য বেছে নেবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আপনি যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি গত ১৭ বছর লড়াই করেছি।

আমি সবসময় লুণ্ঠন, গুম ও খুনের রাজনীতির বিপক্ষে। আপনারা আগামীর যে স্বপ্ন দেখছেন আমরা তরুণদের পাশে থেকে এই স্বপ্ন পূরণে কাজ করবো। তরুণদের শিক্ষায়, জ্ঞানে, প্রযুক্তিতে একটি দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করবো। 

বিশিষ্ট চিন্তক ও গবেষক ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, আমি এখানে আজ কেন আসতে পেরেছি? এর কারণ ৫ আগস্ট। দেশে পাঁচ আগস্ট সংঘঠিত না  হলে হয়তো আজ আমি এখানে আসতে পারতাম না। তবে পরিতাপের বিষয় হলো, জুলাইয়ে ছাত্রদলের সর্বোচ্চ নেতাকর্মী মারা গেলেও আমরা তাদের পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেই না। আমি নিয়মিত বাবুল ভাইয়ের টকশো দেখি।

আমি উনার একজন ফ্যান। আপনাদের একটা প্রশ্ন কাকে নির্বাচিত করব? নির্বাচিত করার আগে আমাদের লক্ষ্য করতে হবে কার ট্র‍্যাক রেকর্ড কেমন। তার রাজনৈতিক দলও একটা বিশেষ বিবেচনার বিষয়। যাকে নির্বাচিত করব দেখতে হবে তার রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাবে কি-না। প্রার্থী সংসদে যাবে কি-না। সেভাবে বিবেচনা করে আপনারা ভোট দিবেন।

ফাহাম আব্দুস সালাম আরও বলেন, আমি বাবুল ভাইকে যেভাবে চিনি তার ক্ষমতায় যাওয়া উচিত। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ। যার জন্য আমরা ১২-১৩ বছর ধরে এক্টিভিসম করছি। বাবুল ভাই ক্ষমতায় গেলে আপনারাই ক্ষমতায় যাবেন। 

রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো জেনারেশনই পূর্বের জেনারেশনের কথা শুনে না। কারণ নতুন জেনারেশন তৈরিই হয় পূর্বের জেনারেশনকে ব্রেক করার জন্য। আমার জেনজি নিয়ে একটা ভুল ধারণা ছিল। তবে ২০২৪ এর জুলাইয়ে আমার ভুল ভেঙ্গে গেছে। তোমরা অনেক বড় এক বিপ্লব করে ফেলেছো যা আমাদের সাহস ছিল না।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামায়াত সমাজে কথা বলার মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে। এখন অনেকে গুপ্ত এই টার্মটার ভয়ে কথা বলে না। এটা জামাতের একটা পাপ। বাবুল ভাই এবং বিএনপির কাউকে এবার ভোট চাইতে হবে না। তাদের এখন ২০৩১ সালের নির্বাচন নিয়ে ভাবা উচিত। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা রাজনীতি করে একটা দায়িত্বশীল পর্যায়ে আসতে চেয়েছি। ক্ষমতার মালিক তো জনগণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক মূলবোধ ও নৈতিকতাকে বাংলাদেশের শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

তারেক রহমান এগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এখানে যে দায়িত্ব সেটি শহিদুল ইসলাম বাবুল একা পালন করতে পারবেন না। আপনাদের সবাইকে নিয়ে, এই জেনজিকে নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। সকলের কাছে তিনি শহিদুল ইসলাম বাবুলের জন্য ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, এখানে অনেক প্রতিভাবান তরুণ রয়েছে যারা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। শহিদুল ইসলাম বাবুল সেসব তরুণদের পেট্রোনাইজ করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। বিগত ১৭ বছর ধরে উনি এরকম প্রতিভাবান ছেলেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জান্নাতের টিকেট বিক্রি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জান্নাত জাহান্নামের ফয়সালার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। সুতরাং যারা এসব করছেন তারা ভণ্ড।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের সদস্য সচিব শফিকুর রহমান মিঠু ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সজল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সহস্রাধিক তরুণ-তরুণী উপস্থিত ছিলেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement