সুন্দরগঞ্জে ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জে ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৫৭, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তা মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভূমি কর্মকর্তা মহব্বত আলী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছে। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ প্রতিটি সেবাকে তিনি ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছে।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা গ্রামের আতোয়ার রহমান বলোন, গত ০৪/১০/২০২৫ তারিখে নামজারির জন্য আবেদন করেন। আবেদন নম্বর ৫২৬২২০৪। আবেদন করার পর বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখিয়ে কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও হয়রানী মুলক আবারো আবেদন করতে বললে ভুক্তভোগী আবারও গত ১৩/১১/২০২৫ তারিখে আবেদন করেন।যাহার আবেদন নং ৫৫৮৮৮২৮।

পুনরায় আবেদন করার দুই মাসেরও বেশি দিন অতিবাহিত হলেও ফাইল পরে আছে চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ভুক্তভোগীসহ অনেকে মনে করেন টাকা না দেওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত নামজারির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় সুধী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়েও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভূমি মালিকরা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে গেলে ৩০ থেকে ৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে খতিয়ানভুক্ত সব জমির ভুমি কর একসঙ্গে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। তবে অনলাইন রশিদ দেয়া হয় নামমাত্র। সীচা গ্রামের আব্দুল হামিদ গং দের থেকে ৪ একর ৪১ শতাংশ জমির ভুমি উন্নয়ন কর দফা রফা করে ২৪ হাজার টাকা নেয়। তবে খাজনার রশিদ দেন ১৪ হাজার টাকার।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করলেও ১০/১১ হাজার টাকার রশিদ দেয়ার ঘটনা ঘটে অত্র অফিসে। ৩৪/৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে ৩ বছরের বকেয়া ও চলতি বছরের ভুমি উন্নয়ন কর আদায় অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়া হয়।

এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভূমি কর্মকর্তা মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে সরকার প্রতি মাসে একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকেই ১০ থেকে ১১ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি টাকারও বেশি। ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে ১৩০/২৩ নং মোকদ্দমা চলমান থাকা সত্ত্বেও রহস্য জনক কারণে বিবাদী মুকুল মিয়ার নামে ১১শতক জমি নাম জারির প্রস্তাব পাঠারনা হলে, সে মোতাবেক মুকুল মিয়া খারিজ খতিয়ান পায়।

তার নতুন খারিজ খতিয়ান নং ২৫। ৪০৮৪ নং মোকদ্দমার বাদী আব্দুল মতিনসহ অন্য অংশিদার শেফালী বেগমের নাম জারির প্রস্তাব মোকদ্দমার অযুহাতে পাঠানো হয়নি। এমন অনিয়ম চলতে থাকলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভূমি কর্মকর্তা মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এবিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা মহব্বত আলীর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement