“অযৌক্তিক আন্দোলন শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল করছে”—সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ

Published : ২০:২২, ৩০ আগস্ট ২০২৫
দেশের আট লক্ষাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও সাড়ে চার লক্ষাধিক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে চলমান প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনের সিইসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, বিষয়গুলো সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের প্রজ্ঞাপনেই সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। তার মতে, এ আন্দোলনের পেছনে কোনো অশুভ শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অযৌক্তিক এ আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো প্রকৌশল শিক্ষাঙ্গন ও পেশাকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি দেশে নৈরাজ্য পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। তাদের ধারণা, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্যও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে।
তারা অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় পুলিশের সঙ্গে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে আন্দোলনটি অশুভ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন আরও বলেন, সরকারের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে সমর্থন করলেও প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই মীমাংসিত বিষয়গুলো অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। একইসঙ্গে সংগ্রাম পরিষদের সাত দফা দাবির যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডিগ্রি ও ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশলীদের পেশাগত দাবি যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আইডিইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন ও আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলামসহ সরকারের তিন উপদেষ্টা রয়েছেন।
ইতোমধ্যে ওই কমিটির প্রথম সভায় সংগ্রাম পরিষদের সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সেখানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মাত্র চারজন প্রতিনিধি রাখা হলেও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের আটজন সদস্য রাখা হয়েছে, যা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের শঙ্কা তৈরি করেছে বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের মতে, ওয়ার্কিং কমিটিতে ডিগ্রি-ডিপ্লোমা থেকে একজন করে প্রতিনিধি রেখে বাকি ১২ জনকে প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। গত ২৫ আগস্ট রংপুরে নেসকোর প্রধান দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে মব সন্ত্রাস চালানো হয়। এসময় কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অথচ, ঘটনার দায় উল্টো তাদের ওপর চাপিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, এসব ঘটনায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
প্রশ্নোত্তরে প্রকৌশলী আখেরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি পূরণ হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মেট্রোরেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন ও মামলা করে পরীক্ষা স্থগিত করেছে, যা রাষ্ট্র ও জনগণের ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
BD/AN