সৌদিতে পিএইচডি! আনোয়ার হোসেনের হাতে ৫ কোটি টাকার বৃত্তি

সৌদিতে পিএইচডি! আনোয়ার হোসেনের হাতে ৫ কোটি টাকার বৃত্তি

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:২৪, ২৩ আগস্ট ২০২৫

কেরানীগঞ্জের ছেলে আনোয়ার হোসেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তবে তিনি সর্বদা ‘ডক্টর’ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি সম্প্রতি সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসে পিএইচডির প্রস্তাব পেয়েছেন। প্রায় ৫ কোটি টাকার সমমূল্যের ফুল ফান্ড বৃত্তি পেয়ে শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন যাত্রা। আনোয়ারের সাফল্যের গল্প শুনেছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম।

শৈশব ও পড়াশোনা

আনোয়ার মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন; বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহিণী। ছোটবেলায় খেলাধুলার বেশি সুযোগ পাননি। মা বলতেন, “জীবনে অনেক সুযোগ আসবে, আগে পড়াশোনায় মন দাও।” ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৪.৭২ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। পরে সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৬ সালের ইন্টার ক্লাস ফুটবল টুর্নামেন্টে তাঁর দল রানার্সআপ হয়। পরের বছর বুয়েটে আয়োজিত ইন্টার কলেজ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফেয়ারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ম্যাথমেটিক্যাল ট্যালেন্ট প্রভে বিশ্বব্যাপী ৪৩৫তম র‌্যাঙ্ক অর্জন করেন। এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

ড্যাফোডিলের প্রথম দিন থেকে তিনি এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ‘ডিআইইউ ব্যাটেল অব মাইন্ড ১.০’ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ স্টার্টআপ চ্যাপ্টার-২ এ তাদের প্রজেক্ট টপ-৩০-এ স্থান পায়। পাশাপাশি টেক অব প্রোগ্রামিং কনটেস্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা (কোচিং ও টিউশন) পেশাতেও যুক্ত ছিলেন।

গবেষণার প্রতি আগ্রহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ থেকে গবেষণায় আগ্রহ বাড়ে। ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কনফারেন্সে প্রথমবারের মতো অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রেজেন্ট করেন। পরে লন্ডনের একটি কনফারেন্সে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। ২০২৩ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিজিপিএ ৩.৮২ পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

চাকরি থেকে পুনরায় পড়াশোনা

বিএসসি শেষে আনোয়ার দেড় বছরে তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, শেষ চাকরি ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে। তবে মন বসাতে পারেননি। এই সময় তিনি পিএইচডির সুযোগ খুঁজতে থাকেন। বন্ধু তাকে কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস সম্পর্কে জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের সুযোগ জানেন। আবেদন ও ইন্টারভিউ সম্পন্নের কয়েকদিন পরই আসে সুখবর। ফুল ফান্ড স্কলারশিপসহ ১৪টি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। ২৪ আগস্ট থেকে তাঁর পিএইচডি ক্লাস শুরু হচ্ছে।

স্কলারশিপ সুবিধা

স্কলারশিপের আওতায় রয়েছে মাসে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল স্টাইপেন্ড, সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা, বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক, ভর্তুকিযুক্ত খাবার, বিমান টিকিট, গবেষণার অতিরিক্ত অর্থায়ন, কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ফান্ডসহ মোট ১৪টি সুবিধা।

পিএইচডিতে আবেদন প্রক্রিয়া

আনোয়ার বলেন, “সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি করতে হবে। নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টের ফ্যাকাল্টির সঙ্গে গবেষণাকে সংযুক্ত করে কনভিন্স করতে হয়। শর্টলিস্টেড হলে ফাইনাল ইন্টারভিউ দিতে হয়। সিভি, পাবলিকেশন, ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেফারেন্স লেটার, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট প্রয়োজন।”

নতুনদের জন্য পরামর্শ

আনোয়ার পরামর্শ দেন, “পিএইচডি করতে চাইলে প্রথম বর্ষ থেকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। শুধু ক্লাসের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা, প্রতিযোগিতা, ক্লাব, ওয়ার্কশপ, নেতৃত্ব—এসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা জরুরি। এগুলোই পরবর্তী সময়ে পিএইচডির দরজা খুলে দেয়।”

BD/AN

শেয়ার করুনঃ
Advertisement