বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ঘোষণা আসছে শিগগির

বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ঘোষণা আসছে শিগগির ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০০:৫৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক বা তথাকথিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ হ্রাসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইতিবাচক অবস্থান জানাতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ ভাগে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সংক্রান্ত কোনো সুখবর আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত কূটনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমানোর বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে বর্তমানে যে ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে, তা কতটা কমানো হবে—সে সিদ্ধান্ত এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে।

দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বিশেষ দূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্ক নীতির বহু বিষয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসাও একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাণিজ্য বাধা শিথিল করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে বলে তিনি মনে করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি জানান, ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, যদিও তাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইইউ ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে এসব আলোচনা সক্রিয় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বিস্তারিত নথি ও দিকনির্দেশনা রেখে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ দূতের মতে, এবারের ডব্লিউইএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় ও দৃঢ় উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের একটি নতুন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement