যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে নতুন ভূমি আইন

যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে নতুন ভূমি আইন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৩৫, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

সরকার দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। সদ্য প্রণীত নতুন ভূমি আইনের মাধ্যমে জমির মালিকানা নির্ধারণ, খাজনা আদায় এবং ভূমি সংরক্ষণ–সংক্রান্ত সব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই আইনের অন্যতম বড় সংযোজন হলো আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি মালিকানা সনদ (CLO), যা স্মার্ট কার্ড আকারে প্রদান করা হবে এবং এতে থাকবে ইউনিক নম্বর বা কিউআর কোড। ভবিষ্যতে এই CLO-ই জমির মালিকানার চূড়ান্ত ও আইনগত বৈধ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন ভূমি আইনের আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছে সরকার।

প্রথমত, খাজনা পরিশোধে আনা হয়েছে কঠোর নিয়ম। কোনো জমির মালিক যদি টানা তিন বছর খাজনা পরিশোধ না করেন, তাহলে সেই জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের মালিকানায় চলে যাবে এবং খাস জমি হিসেবে বাজেয়াপ্ত হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, খাজনা আদায়ে শৈথিল্য বন্ধ করতেই এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভূমি জালিয়াতি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন আইনে জালিয়াতি বা অবৈধ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড একসঙ্গে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে দালালচক্র ও ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, জমির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে CLO হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা বদল হলে দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করে ভূমি মালিকানা সনদ আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত, কৃষিজমি সংরক্ষণে আনা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। দুই বা তিন ফসলি জমি সাধারণভাবে অধিগ্রহণ করা যাবে না। বিশেষ জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের অনুমোদন ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে নির্বিচারে কৃষিজমি নষ্ট না হয়।

নতুন ভূমি আইন কার্যকর হলে সারা দেশে জমির মালিকানা নির্ধারণ, দলিল ও নথিপত্র সংরক্ষণ এবং খাজনা আদায়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, দখলবাজি ও দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কৃষিজমি সংরক্ষণ, মালিকানার স্থিতিশীলতা এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement