১২ ফেব্রুয়ারি ভোট, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সব প্রস্তুতি শেষ
Published : ১৪:৫৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই বাকি।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি ধারণা দেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার প্রায় ৫৫ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যদিও বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি হয়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসি’র এক পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। ভোট শেষ হলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। এই কেন্দ্রের কার্যক্রম ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বেসরকারি ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবেন প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ইসি ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে থাকতে পারবেন না।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিডি/এএন



























