কুমিল্লায় বাস–ট্রেন সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
Published : ২৩:১৮, ২২ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় ভয়াবহ বাস–ট্রেন সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রোববার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে পর্যায়ক্রমে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান লেভেল ক্রসিংগুলোকে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে ট্রেন আসার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট বন্ধ হয়ে যায়। এসব ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গার্ডও নিয়োগ করা হবে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই গেটম্যানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং স্টেশন মাস্টারকেও জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের স্বজন ও আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।



























