আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম ডিসি
Published : ০১:২৪, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রতীক বরাদ্দের কাজও শেষ হয়েছে। যারা প্রতীক পেয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আশা করি, তারা সবাই দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গনের অংশীদার হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থীরা যেভাবে আচরণবিধি মেনে চলেছেন, তা সন্তোষজনক। আমরা আশা করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা এই আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলবেন। পাশাপাশি প্রশাসন কিছু বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে, যা প্রতিটি প্রার্থীকে অবশ্য পালন করতে হবে।”
প্রার্থীদের প্রচারণা সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিসি বলেন, আগামীকাল থেকে প্রচারণা শুরু হবে। তবে কোন প্রার্থীর কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। লিফলেট বিতরণ করা যাবে, তবে তার নির্দিষ্ট আকার ও এতে যে প্রার্থীর ছবি থাকবে তা আগেভাগে জানাতে হবে। একই সঙ্গে মাইকিং সংক্রান্ত নিয়মও ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন কতটি মাইক ব্যবহার করা যাবে এবং কোন সময়ের মধ্যে মাইকিং করা সম্ভব।
ডিসি আরও স্পষ্ট করেন, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, বাস বা লঞ্চ ব্যবহার করে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না। এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণার প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি প্রার্থীকে তাদের পক্ষে কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাবে, তার তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে। পরিচয়, ফেসবুক পেজসহ সমস্ত তথ্য লিখিতভাবে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় প্রার্থীকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বিষয়ে ডিসি বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট আগামীকাল বা পরশু থেকে আসতে শুরু করবে। চট্টগ্রাম থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। পোস্টাল ব্যালট জেলা ট্রেজারিতে পৌঁছালে তা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন। এজেন্টদের স্বাক্ষর, মোবাইল নম্বর ও এনআইডির কপি লিখিতভাবে জমা দিতে হবে।
ডিসি গুজব প্রতিরোধেও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনো গুজব দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গুজব ছড়ানো হলে দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনোভাবেই নির্বাচন প্রভাবিত হতে দেওয়া হবে না।”
বিডি/এএন































