বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে যে নতুন বার্তা দিলো জাতিসংঘ

বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে যে নতুন বার্তা দিলো জাতিসংঘ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:১৫, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে আয়োজন করা হবে জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটও।

ইতোমধ্যে দেশজুড়ে নির্বাচনি উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। এই নির্বাচনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে সরকারও আইনশৃঙ্খলা জোরদারসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই সংসদ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য এমন একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে দেশের সব নাগরিক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো বাধা ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা জানান। সাংবাদিকরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন যে, জুলাই বিপ্লবের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে; জাতিসংঘ এই নির্বাচনের জন্য এবং নির্বাচনের পর গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য কোনো পরামর্শ দেবে কি না।

জবাবে ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘ অবশ্যই নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করছে। তারা সব পর্যায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশ এমন হওয়া প্রয়োজন যেখানে সব ব্যক্তি নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন।

এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। এছাড়া, দলের সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা খাতের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত থাকবেন। দলের কার্যক্রমকে সমর্থন করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের একটি সহায়ক দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্ধারণ করা যে, নির্বাচন ও গণভোট কতটা বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব আন্তর্জাতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ডে দেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা নিয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।

মিশন শেষ হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য সরকার এবং সাধারণ জনগণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement