সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতা-কর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিতিতে জনসভাস্থল ক্রমেই মুখর হয়ে উঠছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের। তাঁকে ঘিরেই এই জনসভায় নেতাকর্মীদের আগ্রহ ও উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এদিকে গতকাল বুধবার রাত থেকেই সিলেটের বিভিন্ন থানা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। রাত পেরোনোর আগেই আলিয়া মাদরাসা মাঠে উল্লেখযোগ্য ভিড় জমে ওঠে এবং বৃহস্পতিবার সকালে সেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে সমবেত হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো আলিয়া মাদরাসা মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মাঠজুড়ে দেখা যায় দলীয় পতাকা, ধানের শীষের প্রতিকৃতি এবং তারেক রহমানের ছবি সংবলিত নানা ব্যানার ও ফেস্টুন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভা থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনের দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে জনগণের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দেবেন তিনি—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
তারেক রহমানের সফর ও জনসভাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে। জনসভাস্থল ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল রাত আনুমানিক আটটার দিকে তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান। এরপর তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
পাশাপাশি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরেও শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি সিলেট নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
এর আগে বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জুবাইদা রহমানের পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের মাগফিরাত কামনায় একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে কিছু সময় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান শেষে তিনি সিলেট বিমানবন্দরসংলগ্ন একটি হোটেলে ফিরে যান।






























