২০ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু, প্রার্থীদের জন্য যেসব নিষেধাজ্ঞা

২০ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু, প্রার্থীদের জন্য যেসব নিষেধাজ্ঞা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:২৮, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের জন্য মোট ২০ দিনের প্রচারণার সময় নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনি প্রচারণাকালে প্রার্থীরা কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত ও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসির আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বৈধ মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারণার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার কিংবা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম। ফলে কোনো প্রার্থীই পোস্টার ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কিছু শর্ত আরোপ করেছে ইসি। জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সভার দিন, তারিখ ও সময় জানাতে হবে। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে কোনো সভা বা সমাবেশ করা যাবে না।

সড়ক, মহাসড়ক কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা আয়োজন করা হলে সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সভা-সমাবেশ আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পোস্টার দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এবারের নির্বাচনে সেটির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিটি বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ ৯ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের আয়তন হতে পারবে সর্বোচ্চ এ-ফোর সাইজের। আর ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

নির্বাচনি প্রচারসামগ্রীতে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি অবশ্যই পোর্ট্রেট আকারের হতে হবে এবং ব্যবহৃত ছবির সর্বোচ্চ আয়তন ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকতে হবে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাঁদের প্রচারসামগ্রীতে কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা তিন মিটারের বেশি হতে পারবে না।

প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসির আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারে কোনো ধরনের ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক কিংবা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ। ধর্মীয় ও জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহারও করা যাবে না। প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে; মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কোনো কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না। গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন ধারা যুক্ত করে এসব কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, জনসভা কিংবা শোডাউন আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনসহ বা যানবাহন ছাড়াই কোনো ধরনের মশাল মিছিল করার অনুমতি নেই।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জা করা যাবে না।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনকি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement