দেবিদ্বারে চাঁদাবাজি বন্ধে যে হুঁশিয়ারি দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

দেবিদ্বারে চাঁদাবাজি বন্ধে যে হুঁশিয়ারি দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (শাপলা কলি প্রতীক) ১১৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয় অর্জন করেছেন।

জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ঘোষণা দেন—দেবিদ্বারে আজ থেকেই চাঁদাবাজির কবর রচনা করা হলো। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালতে আর ঘুষ ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে আসবেন, তারা যেন ঘুষ ও অনিয়মের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন।

দেবিদ্বারে আর টেন্ডারবাজি চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমনকি অন্যায় কাজে জড়ালে নিজের বাবাকেও ছাড় দেওয়া হবে না—এই কথাও স্পষ্ট করে বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি তাঁর নাম বা ছবি ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়ায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। নিয়মের ভেতরে থাকলে তাঁর পক্ষের হোক বা বিপক্ষের—সবাই নিরাপদ থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের ওপর প্রতিশোধ না নেওয়ার কথাও জানান।

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি। দেবিদ্বারে এ মুহূর্ত থেকে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তিনি ব্যবসায়ী, সিএনজি স্টেশনের কর্মী, পেশাজীবী-শ্রমজীবী মানুষ ও হোটেল মালিকদের উদ্দেশে বলেন—সরকারি ফি ছাড়া এখানে আর কোথাও কোনো চাঁদা দিতে হবে না।

তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন বা ট্যাক্স ফাইল ছাড়া দেবিদ্বারে কোনো ব্যক্তিকে এক পয়সাও চাঁদা দেওয়া যাবে না। কেউ চাঁদা চাইলে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যারা এখানে চাকরি করবেন, তাদের সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে কোনো অনিয়মে জড়ানো যাবে না। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, দেশ বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে সংশোধন করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, দেবিদ্বারের কোনো কর্মকর্তা যদি ঘুষের সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলে তাকে এখানে চাকরি করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন—এতদিন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট চললেও এখন আর তা হবে না।

কেউ মাদক ব্যবসায় জড়াতে চাইলে বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়—মাদক ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িতদের দিন শেষ।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হিসেবে তিনি আরও বলেন, গোমতী নদী থেকে সরকারি নিয়মের বাইরে এক কোদাল মাটিও কাটা যাবে না। মাটি কাটা ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িতরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছে—হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করছে,

ফোন দিচ্ছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুভেচ্ছা গ্রহণ করা হলেও এসব লোককে নামাজ পড়ে তওবা করে তাঁর সামনে আসতে হবে। প্রয়োজনে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, রিকশা বা ভ্যান কিনে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন—কেউ যদি গরিব খেটে খাওয়া মানুষের হক বা সরকারের সম্পদের দিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হাত বাড়ায়, তাহলে জনগণ সেই হাত বরদাশত করবে না।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement