ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসন জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যা প্রায় দুই যুগের পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা ২১২টি আসন দখল করেছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসন জয় করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের জয়ের ফলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে। তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—দুটি আসন থেকে নির্বাচন করে উভয়টিতেই জয়ী হয়েছেন। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে এবং চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণাও স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রের মতে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছে—
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আছাদুজ্জামানের নাম শোনা যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব পেতে পারেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে ড. রেজা কিবরিয়া দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যথাক্রমে সালাউদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম আলোচনায়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দায়িত্ব পান বলে সম্ভাবনা আছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মেজর (অব.) হাফিজের নাম বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যথাক্রমে এহছানুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ এবং ডা. জেড এম জাহিদ হাসান দায়িত্ব পেতে পারেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান অথবা টেকনোক্রেট হিসেবে রুহুল কবির রিজভি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বরকত উল্যা বুলু বা অন্য প্রার্থী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আমান উল্যা আমান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ড. আব্দুল মঈন খান পান, যদি রাষ্ট্রপতি পদে না যান।
সংসদ পরিচালনায় চিফ হুইপ হিসেবে জয়নাল আবেদিন ফারুক এবং হুইপ হিসেবে আশরাফ উদ্দিন নিজান নাম আলোচনায় আছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বিএনপি অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং সংস্কারমূলক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এসব পদ নিয়োগ ও দায়িত্ব এখনও সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।



























