ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাতেই জয়ী এমপিদের শপথ

ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাতেই জয়ী এমপিদের শপথ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:৪৪, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনিই এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গণমাধ্যমে এমন সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার না থাকায় এবারের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্নভাবে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেন। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে এবার সেই নিয়ম অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—নতুন এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তার আগেই আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে দণ্ডিত অবস্থায় রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়ে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। আইন উপদেষ্টা জানান, সংবিধান অনুযায়ী প্রথমে স্পিকার, তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে একজন নিখোঁজ ও অন্যজন কারাগারে থাকায় এই দুই পথই কার্যত বন্ধ।

এ ছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে এবং স্পিকার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। ফলে তাদের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করেন আইন উপদেষ্টা।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে একজন প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন। আবার তিন দিনের মধ্যে সেটিও না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজ উদ্যোগে শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর পরদিন বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement