নির্বাচন শেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তাসনিম জারা
Published : ২০:৫৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশব্যাপী আলোচিত ও ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—অনেকে মনে করছেন নির্বাচন শেষ হলেই তিনি হয়তো যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন।
তবে বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেন, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। তাঁর শেকড় এই দেশেই, আর তাঁর কাজও এখানেই।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে “নির্বাচন–পরবর্তী কিছু ভাবনা” শীর্ষক একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা জানান।
তাসনিম জারা লেখেন, একটি মাত্র নির্বাচনের জন্য এই যাত্রা শুরু হয়নি। তাঁদের লক্ষ্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা—যা একটি দীর্ঘ পথচলা। এই পথে মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াকে তিনি নিজের জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।
ঢাকা–৯ আসনে তিনি মোট ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট এবং বিজয়ী হয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা তাঁর নির্বাচন–পরবর্তী ভাবনাগুলো সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফায় তুলে ধরেন—
১. অভিনন্দন ও গঠনমূলক ভূমিকার অঙ্গীকার
জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তিনি বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে ঢাকা–৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, ফল ঘোষণার রাতেই ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছেন। ঢাকা–৯ ও দেশের মানুষের স্বার্থে তাঁদের সাফল্য কামনা করে বলেন, তাঁরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন—জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সমর্থন দেবেন, তবে মানুষের ক্ষতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
২. নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ
প্রচারণায় নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণকে তিনি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। কিশোরী ও তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন—স্বপ্ন দেখতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, ক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁদেরও অধিকার আছে। সামনে আসার আহ্বান জানান তিনি।
৩. স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ভলান্টিয়ারদের তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃৎস্পন্দন হিসেবে আখ্যা দেন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, তা বিরল বলে উল্লেখ করেন। মন খারাপ না করে সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
৪. দেশেই থাকার ঘোষণা
অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলে তিনি বিদেশে ফিরে যাবেন—এই ধারণা নাকচ করে আবারও বলেন, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। তাঁর শেকড় এই মাটিতে, তাঁর কাজও এখানেই। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি সবার সঙ্গে থাকবেন।
৫. পরিচ্ছন্ন রাজনীতিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব—এটা তাঁরা প্রমাণ করেছেন। তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেল টিকিয়ে রাখতে শক্ত সংগঠন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
৬. আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি
জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে দাঁড়ানো সাহসী মানুষদের অবদান স্মরণ করে বলেন, আজ যে গণতন্ত্রের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে, তা তাঁদের আত্মত্যাগের ফল। তিনি অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর টিম এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান—এমন জটিল সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাকে তিনি বড় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
৭. ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলার প্রত্যয়
৪৪ হাজারের বেশি ভোটকে তিনি একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। পুরোনো রাজনৈতিক ছক ভেঙে তাঁরা নতুন পথ দেখাতে পেরেছেন। ঢাকা–৯ ও বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি—কারণ তাঁদের সেরা সময় এখনো সামনে।
বিডি/এএন



























