নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহের নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের সূচি নতুন করে সাজানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের মতো জটিল হয়ে উঠেছে।
এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপের মুখে তাকে দল থেকে ছাড়তে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এর প্রেক্ষাপটে রোববার বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকায়—আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি—সূচি পুনর্গঠনের কাজ আয়োজকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল—৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে নির্ধারিত ছিল।
এরই মধ্যে বিসিবি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার আটটি ভেন্যুতে আয়োজন করার কথা রয়েছে।

































