ফুল-মিষ্টি দিয়ে গ্রাহক বরণ, ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু

ফুল-মিষ্টি দিয়ে গ্রাহক বরণ, ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:২০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কাটিয়ে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়াসহ স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। নতুন করে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর দিলকুশা শাখায় টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়েও আপ্যায়ন করা হয়।

সকালে শাখাটিতে গিয়ে দেখা যায়, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে ব্যাংক প্রাঙ্গণ। প্রবেশপথে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান কর্মীরা। টাকা তুলতে আসা অনেক গ্রাহককে নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে।

শাখার কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ অক্টোবর যেসব গ্রাহক টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন, বৃহস্পতিবার তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে চাইলে তাঁকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ হান্নান দেওয়ান অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে এদিন ৪০ হাজার টাকা তোলেন। তিনি বলেন, আগে প্রতি সপ্তাহে এই শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা করে তুলতেন। তাঁর বাবা হাসপাতালে ভর্তি এবং নিয়মিত চিকিৎসার জন্য প্রতি সপ্তাহে ওই অর্থ প্রয়োজন হয়। এর আগে একসঙ্গে বেশি টাকা তুলতে চেয়েও পাননি বলে জানান তিনি।

দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম জানান, ১১ অক্টোবর টাকা তোলার আবেদন করা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন এই শাখায় ৩৩ জন গ্রাহক এক কোটি টাকার বেশি আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

শাখার কর্মকর্তারা জানান, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ঘণ্টায় প্রায় ৪০ জন গ্রাহককে মোট ৩২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শাখাটিতে আমানত জমাও নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনেক গ্রাহক নতুন করে টাকা জমা দিয়েছেন।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা তুলতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শাখায় আসেন পুরোনো গ্রাহক শেখর ঘোষ। তিনিও ১১ অক্টোবর টাকা তোলার আবেদন করেছিলেন। চাহিদামতো অর্থ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত দুই বছর সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলতে তাঁকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পাননি।

শেখর ঘোষ বলেন, ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলে নেননি তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু দরকার, ততটুকুই তুলেছেন। ভবিষ্যতেও যেন গ্রাহকেরা নিজেদের জমা অর্থ তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।

ন্যাশনাল ব্যাংক এ কার্যক্রমকে তাদের নতুন যাত্রা হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত ৮ অক্টোবর ব্যাংকটি জানায়, ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকেরা সারা দেশের সব শাখা ও এটিএম বুথের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই সঙ্গে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ডিজিটাল ও অনলাইন সেবাগুলোও পূর্ণমাত্রায় চালুর কথা জানায় ব্যাংকটি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement