হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে সফল দিনাজপুরের লিটন

Published : ১৩:৩১, ৩১ আগস্ট ২০২৫
উদ্যোক্তা হয়ে দারিদ্রতার কবল থেকে নিজেদের মুক্তি করে যারাই জীবন যুদ্ধে সফল হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের যুবক লিটন ইসলাম (৩১)। ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে সফল হয়েছে তিনি। হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে মাসে আয় করেন প্রায় ৩ লড়্গ টাকা। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পদ্ধতি।
বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাশিপুর খুশির বাজার এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে লিটন বলেন, প্রায় এক যুগ থেকে তার বাবা তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে আসছিলেন। পরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাবার ব্যবসাতে সহযোগিতা করার জন্য ইনকিউবেটর যন্ত্র ক্রয় করেন তিনি। ওই যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো হয়।
লিটন বলেন, বাড়ির পাশে পুকুর থাকায় হাঁস পালনে তেমন বেগ পেতে হয় না। বড় হাঁসগুলো প্রতিনিয়ত ডিম দেওয়ায় বাড়তি ডিমও বেশি ক্রয় করতে হয় না। ফলে অল্প খরচে লাভ বেশি হয়। শুধুমাত্র হাঁস প্রজনন, ডিম উৎপাদন ও বিক্রি করে থেমে যাননি তিনি। দেশি সাদা ও কালো জাতের পাশাপাশি চীনের জিনডিং, বেইজিং, পিংকি, ইংল্যান্ডের খাকি ক্যাম্পবেল ও ভারতের রানারসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের হাঁস পালন ও বাচ্চা প্রজনন করা হচ্ছে তার খামারে। এখন খামার কেন্দ্র করে স্বপ্ন দেখছেন লিটন।
বীরগঞ্জ উপজেলায় খামারটি হাঁস প্রজনন খামার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৬দিন পর ডিম ফুটানো বাচ্চা বুকিংয়ের মাধ্যমে খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। বাজার মূল্যের চেয়ে খুব কম মূল্যে হাঁসের বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করেন লিটন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার খামারে আসেন হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করার জন্য। তার সফলতা দেখে জেলার অনেক তরম্নণ ও যুবক হাঁসের খামার করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। উদ্যোক্তা লিটন বলেন, ইনকিউবেটর মেশিনটি ক্রয় করেছেন ৫০ হাজার টাকায়।
২৮ দিন পর বাচ্চা গুলো খোলস থেকে বেড়িয়ে আসার পর সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। লাভ ভালো থাকায় ছোট ইনকিউবেটর ভেঙ্গে ৭ হাজার ও ১২ হাজার বাচ্চা ফোটানোর ইনকিউবেটর নিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৫ লড়্গ টাকা। প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বিক্রি করা হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা।
মাসে ১৩ হাজার হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে বের করা হয়। এসব হাঁসের বাচ্চা থেকে মাসে আয় হয় প্রায় ৩ লড়্গ টাকা। দিনাজপুরের খানসামা, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাট জেলার ক্রেতারা হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। লিটন বলেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রসেসিং পস্নান্ট তৈরির মাধ্যমে হাঁস মোটাতাজা করে মাংস বাজারজাত করার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও করা সম্ভব। বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ভ্যাকসিন ঔষধসহ সব ধরণের সহায়তা লিটনকে দেওয়া হচ্ছে।
BD/AN