ইরানে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা, মেট্রো স্টেশন ও মাটির নিচে আশ্রয় ব্যবস্থা

ইরানে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা, মেট্রো স্টেশন ও মাটির নিচে আশ্রয় ব্যবস্থা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৫০, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর কারণে দেশটিতে সম্ভাব্য ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা এবং ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্থানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে সাজানো হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের শঙ্কায় তেহরান কোনও ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

তাই রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি শহরের বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, শহরের স্কুলগুলোতে প্রায় ৫১৮টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, তবে এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশই বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী।

এছাড়া তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে পানি, টয়লেট ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসের সুযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

তেমনি, শহরের পার্কিং এলাকা ও ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, তেহরানের শহরে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। বৃহত্তর মহানগর এলাকায় এই সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছায়। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় শহরের বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

সেই সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে তেহরানসহ অন্যান্য এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশাল নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে জবাব দেওয়া হবে কঠোর ও শক্তভাবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement