ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় ঘটেছে এক ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করা তরুণ স্বামী জিতেন্দ্র কুমার যাদব (৩৩)–কে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এনডিটিভির রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৫ নভেম্বর বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার শুরুতে জিতেন্দ্রের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, জিতেন্দ্রের স্ত্রী জ্যোতি তার বাবা কালীচরণ, মা চমেলি এবং ভাই দীপকের সহায়তায় তাকে হাত-পা বেঁধে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মৃতদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
জানা গেছে, জিতেন্দ্র ও জ্যোতির সম্পর্ক ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর তাদের বিয়ে হলেও সংসারজীবনে আর্থিক বিষয় নিয়ে শুরু থেকেই কলহ চলছিল। বিশেষ করে জিতেন্দ্র জ্যোতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে অনলাইন জুয়ায় হারানোর পর দাম্পত্য সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
২৬ জানুয়ারির দিন এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাধে। সে সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঝগড়া একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নিলে পরিবারের সদস্যরা জিতেন্দ্রকে চেপে ধরে রাখেন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যোতিই শেষ পর্যন্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে প্রথমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করা হয়। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ মামলার ধরণ পরিবর্তন করে সরাসরি হত্যা মামলা রুজু করে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে জ্যোতি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে জ্যোতি, তার বাবা কালীচরণ ও মা চমেলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ভাই দীপক এখনও পলাতক এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
এই নৃশংস ঘটনা বরেলি জেলাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা, দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ের বাস্তবতা এবং আর্থিক সংকট কীভাবে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
































