নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বাড়ালো ভারত

নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বাড়ালো ভারত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫৬, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবিরোধী মনোভাব ও নানা ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন দৃশ্যমান হলেও ঢাকার প্রতি অর্থনৈতিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বার্তাই এতে স্পষ্ট হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের নথিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের জন্য ভারতের আর্থিক অনুদান প্রায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবিরোধী কিছু জনমত লক্ষ্য করা গেলেও নয়াদিল্লি তার ঘোষিত ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি থেকে সরে আসেনি। বরং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে বাংলাদেশে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দের সুপারিশ করলেও, সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তা কমিয়ে ৬০ কোটি রুপিতে চূড়ান্ত করা হয়। এই অর্থ মূলত কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, যা ভারতীয় অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

এই বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি বরাদ্দ থাকলেও, অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিতে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। আগের মতোই সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যাদের জন্য ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে—গত অর্থবছরের ১০০ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে এবার ১৫০ কোটি রুপি করা হয়েছে। তবে নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের মতো কয়েকটি দেশের জন্য বরাদ্দ আগের তুলনায় কিছুটা কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য ভারতের অনুদান পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতেই নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন অর্থবছরে ভারত বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই বরাদ্দ করা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়ন সহযোগিতায়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement