এপস্টেইন ইস্যুতে সাক্ষ্য দিতে সম্মত বিল ও হিলারি ক্লিনটন

এপস্টেইন ইস্যুতে সাক্ষ্য দিতে সম্মত বিল ও হিলারি ক্লিনটন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৪৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন ও বিস্তৃত নথিপত্র গত শুক্রবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এসব নথিতে রয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠা, প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও, যা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এর আগে গত নভেম্বরে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। রাজনৈতিক চাপের মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এসব নথি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসে ক্লিনটন দম্পতির বিষয়টিও। এর আগে তারা তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে কমিটির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব এনে কংগ্রেসে ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটি মূলত এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অতীতে তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে।

পরবর্তীতে ক্লিনটন দম্পতির মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কমিটির সামনে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছেন। তার ভাষায়, তারা এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন, যা অন্যদের জন্য অনুসরণযোগ্য হওয়া উচিত।

এর আগে হাউস রুলস কমিটি ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কমিটির সমন উপেক্ষার অভিযোগ আনে। এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগসূত্র ব্যাখ্যার জন্য তাদের ডাকা হলেও তারা তখন উপস্থিত হননি।

উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আটক অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই তার কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সদ্য প্রকাশিত নথিগুলো ওয়াশিংটনজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাংশের দাবি, এই তদন্তকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিপক্ষদের চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে। তাদের মতে, তদন্তের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

আলোচনার আরেকটি দিক হলো, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন পর্যন্ত একবারও সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়নি। বরং তিনি এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন। অথচ কয়েক মাস ধরে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক সময় এপস্টেইনের সঙ্গে সারা বিশ্বের প্রভাবশালী ধনকুবের, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও তারকাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই তালিকায় ট্রাম্পও যে ছিলেন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এই ইস্যুতে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত এপস্টেইনের কোনো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে বিল ও হিলারি ক্লিনটন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি জড়িয়ে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

কমিটির সমন উপেক্ষার ব্যাখ্যায় ক্লিনটন দম্পতি বলেন, ওই সমনে কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি বা প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের দাবি, এপস্টেইনের সঙ্গে ক্লিনটন দম্পতির অতীত সম্পর্ক খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ২০০০ সালের দিকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমানে বিল ক্লিনটনের ভ্রমণের প্রমাণ থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।

তবে কমিটির সামনে হাজির না হয়ে বিল ও হিলারি ক্লিনটন এপস্টেইন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল সম্পর্কে তারা যা জানেন, তা লিখিত আকারে জমা দেন। বর্তমানে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

বিল ক্লিনটন স্বীকার করেছেন যে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে একাধিকবার এপস্টেইনের জেট ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, তিনি কখনোই ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত দ্বীপে যাননি। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো অর্থবহ বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল না এবং জেট ভ্রমণ বা দ্বীপে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় আপাতত তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের ওপর ভোট স্থগিত রেখেছে হাউস রুলস কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ভোট অনুষ্ঠিত হলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা মত দিয়েছেন, এপস্টেইনের অপরাধের তদন্তে কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়—তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন। তবে অন্য একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দলের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হলে ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে প্রকাশিত নথিগুলোই এপস্টেইন–সংক্রান্ত চূড়ান্ত দলিল। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো নথি প্রকাশের সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement