এপস্টেইনের নথিতে কাবার গিলাফ পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য

এপস্টেইনের নথিতে কাবার গিলাফ পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০২:০৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন প্রকাশিত দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে এমন কিছু ইমেইল সামনে এসেছে, যেখানে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র কাপড় পাঠানোর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

মিডল ইস্ট আই–এর রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত–সম্পর্কিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই চালানটির ব্যবস্থা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা এপস্টেইনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আদান–প্রদান হওয়া এসব ইমেইলে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল–আহমাদি আবদুল্লাহ আল–মারি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে কিসওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি কাপড়ের টুকরা পাঠানোর আয়োজন করেন। কিসওয়া হলো কালো রঙের সোনালি সূচিকর্মে মোড়ানো সেই কাপড়, যা সৌদি আরবে ইসলামের সর্বপবিত্র স্থান কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখে।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে কিসওয়ার রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে কাবার ওপর নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয় এবং পুরোনো কিসওয়ার অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান ও পবিত্র নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে থাকা ইমেইলগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে বিমানপথে এসব সামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। এতে চালানপত্র প্রস্তুত, কাস্টমস সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরবরাহ নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়ার বিবরণ পাওয়া যায়।

ইমেইলগুলোতে তিনটি আলাদা কাপড়ের অংশের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নেওয়া হয়েছিল কাবার ভেতরের অংশ থেকে, আরেকটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং তৃতীয় অংশটি একই উপকরণে তৈরি হলেও কখনো ব্যবহার করা হয়নি। ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, অব্যবহৃত কাপড়টির ক্ষেত্রে এটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে পাঠানোর একটি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে এই চালানটি এপস্টেইনের বাড়িতে পৌঁছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। সে সময় তিনি ইতোমধ্যে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

একটি ইমেইলে আহমাদি কাপড়টির ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সরাসরি এপস্টেইনকে লেখেন, ‘এই কালো অংশটি বিভিন্ন মতের অন্তত এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তারা কাবার চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করেন, এরপর যতটা সম্ভব এই অংশটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং এর ওপর নিজেদের দোয়া, আশা, আকাঙ্ক্ষা ও অশ্রু রেখে যান—এই বিশ্বাসে যে তাদের প্রার্থনা কবুল হবে।’

তবে আহমাদির সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল বা ঠিক কী কারণে এই পবিত্র কাপড়গুলো তার কাছে পাঠানো হয়—সে বিষয়ে ইমেইলগুলোতে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

নথিতে থাকা আরেক দফা ইমেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর সৌদি নাগরিক বলে ধারণা করা আহমাদি এপস্টেইনের খোঁজখবর নেন। ওই সময় এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

বেশ কয়েক দিন ধরে তিনি এপস্টেইনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্বীপের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। সেক্রেটারি জানান, সবাই নিরাপদ থাকলেও অনেক স্থাপনা, গাছপালা ও ডক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যদিও দ্বীপের ভেতরের অংশ মোটামুটি অক্ষত রয়েছে। জবাবে আহমাদি ‘নতুন টেন্ট পাঠানোর’ প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপটি পরবর্তীতে এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

আরেকটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠান। তবে এই কিট পাঠানোর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নথিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইমেইল আদান–প্রদানে দেখা যায়, এপস্টেইন খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি আহমাদির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একটি বার্তায় আহমাদি গ্রফকে জিজ্ঞেস করেন, নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে তিনি কি মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়ে বিদায় ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি এফবিআই স্মারকে দাবি করা হয়, জেফ্রি এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement