ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকী বা ‘টেন-ডে ডন’ উদযাপনকে সামনে রেখে ইরান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২০টিরও বেশি নতুন পারমাণবিক সাফল্য উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসলামি এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোহাম্মদ ইসলামি জানান, নতুন উদ্ভাবনগুলো মূলত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সংস্থার অঙ্গীকার এবং এ বিষয়ে আমরা পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের নতুন পারমাণবিক অর্জনের মধ্যে অন্যতম হলো ত্বকের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য উৎপাদিত একটি বিশেষ ‘রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল’ বা তেজস্ক্রিয় ওষুধ। এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইরান এমন ওষুধ উৎপাদনকারী বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ইসলামি জানান, ওষুধটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং ইতোমধ্যে জাতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে রোগীদের কার্যকর সেবা প্রদান করছে।
স্বাস্থ্যখাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো কোল্ড প্লাজমা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষত নিরাময় ক্লিনিক। দেশজুড়ে ইতোমধ্যে ১২টি ক্লিনিক চালু হয়েছে এবং শিগগিরই আরও ক্লিনিক খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ইরান কোয়ান্টাম সায়েন্স, লেজার প্রযুক্তি এবং ডিউটেরিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইসলামি এগুলোকে ভবিষ্যৎমুখী উদ্ভাবন হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ইরানকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে স্থাপন করবে।
শিল্প ও খনি খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন কিছু সাফল্য আসন্ন দিনগুলোতে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। এর মাধ্যমে ইরান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যখাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।































