সাইবার হামলার অভিযোগ নিয়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল

সাইবার হামলার অভিযোগ নিয়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:০৬, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মাধ্যমে নারীবিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে বঙ্গভবনে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল।

দলটির দাবি, এই সাইবার হামলার জন্য বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বঙ্গভবনে যাবে। সেখানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।

জামায়াতের দাবি, বঙ্গভবনের সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে তাদের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে একটি নারীবিদ্বেষমূলক পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা দলটির ভাষায় ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত অবস্থান ও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে এবং সরকারি ই-মেইলের অপব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদুর রহমান জানান, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মেসেজগুলো বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল থেকে পাঠানো হয়েছে। ওই ই-মেইল থেকে জ্যেষ্ঠ নেতাদেরকে ‘Case-Study-Election.accdr’ নামের একটি ফাইল পাঠানো হয়েছিল, যার বিষয় হিসেবে ‘আর্জেন্ট’ উল্লেখ করা ছিল। ফাইলে ক্লিক করার পরই অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে দাবি করা হয়।

জামায়াত আরও জানায়, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের অফিসিয়াল ই-মেইল ([email protected]) ব্যবহার করে ফিশিং মেইলটি পাঠানো হয়েছিল। আমিরের মেইলে ফাইলে ক্লিক করার পরই এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

দলটির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে অল্প সময়ের জন্য এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড ছিল। ওই সময়ের মধ্যেই বিতর্কিত পোস্টটি প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে তারা অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

জামায়াত স্পষ্ট করে জানায়, ওই নারীবিদ্বেষমূলক পোস্টটি আমির বা তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় নিয়োজিত কেউ দেননি। বরং রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement