ম্যাচ বর্জন করলে কী শাস্তি দেয় আইসিসি

ম্যাচ বর্জন করলে কী শাস্তি দেয় আইসিসি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:২৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ‘বর্জন’ করার সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশের অংশ। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না যাওয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পরই এই অবস্থান নেয় পাকিস্তান। বিষয়টিকে তারা রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের বার্তা হিসেবেই তুলে ধরছে।

বাংলাদেশকে আসর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় শুরুতে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে সম্ভাব্য বড় শাস্তি ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে তারা। এর ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আইসিসির নিয়মে কি আদৌ নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করার সুযোগ রয়েছে?

আইসিসির নিয়ম কী বলে
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে টেকনিক্যালি একটি ম্যাচে মাঠে না নামতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কঠোর শাস্তি, পয়েন্ট হারানো এবং বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি।

ওয়াকওভার ও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা
নির্ধারিত দিনে যদি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকেন, কিন্তু পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা মাঠে না আসেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি ভারতের পক্ষে ম্যাচ ঘোষণা করবেন। সে ক্ষেত্রে ভারত পাবে পূর্ণ ২ পয়েন্ট।

এতেই শেষ নয়। আইসিসির ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, ম্যাচে অনুপস্থিত দলকে ২০ ওভারে শূন্য রান করেছে বলে গণ্য করা হবে। এর ফলে পাকিস্তানের নেট রানরেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলতে পারে।

আর্থিক ক্ষতি ও বাণিজ্যিক চাপ
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ইভেন্ট হিসেবে ধরা হয়। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিজ্ঞাপন আয় হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এই ক্ষতির দায় আইসিসি সরাসরি পিসিবির ওপর চাপাতে পারে। পাশাপাশি আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে পিসিবির বার্ষিক রাজস্ব ভাগে। আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থই পাকিস্তানের ক্রিকেট বাজেটের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। এই অর্থ আটকে গেলে পিসিবি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

সরকারি হস্তক্ষেপে ছাড় মিলবে কি
আইসিসি সংবিধানের ধারা ২.৪(ডি) অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হয়। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, যেহেতু সিদ্ধান্তটি সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে, সে কারণে পাকিস্তান শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে।

তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ বর্জনের পেছনে কোনো বাস্তব নিরাপত্তাজনিত যুক্তি নেই। ফলে আইসিসি এই সিদ্ধান্তকে টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী হিসেবে দেখতে পারে।

অতীত নজির কী বলে
এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু দল নির্দিষ্ট ম্যাচ খেলেনি। সে সময় সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে সংশ্লিষ্ট দলগুলো বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক শাস্তির মুখে পড়েনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইসিসির বাণিজ্যিক কাঠামো আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয় এবং এই বিতর্ক বিশ্বকাপের কূটনীতি ও ক্রিকেট রাজনীতিতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement