পাঠ্যপুস্তকে বাদ ৭ মার্চের ভাষণ, যুক্ত হলো জুলাই আন্দোলন

পাঠ্যপুস্তকে বাদ ৭ মার্চের ভাষণ, যুক্ত হলো জুলাই আন্দোলন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৩৪, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৬ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। এসব সংশোধনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কিছু পাঠ্যবইয়ের সংস্করণ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া এবং তার পরিবর্তে জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত নতুন পাঠ সংযোজন।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করে। এর পরপরই বিভিন্ন বইয়ে করা এই পরিবর্তনগুলো নজরে আসে এবং তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এনসিটিবি প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের একাধিক সংস্করণে ‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণটি বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও সব জায়গা থেকে শব্দটি পুরোপুরি বাদ যায়নি, কিছু অংশে এখনও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বহাল রয়েছে। এ কারণে বইয়ের বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণভিত্তিক পাঠটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে নতুন একটি পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলিকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে।

এ ধরনের পরিবর্তন শুধু উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়েও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ে বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে নেওয়া ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামের গদ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে সেই গদ্যাংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগে যেখানে বইটিতে মোট ১২টি গদ্য ছিল, সেখানে এবার গদ্যের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। বর্তমান সংশোধনগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে ‘অতিরঞ্জিত তথ্য’ বাদ দেওয়ার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠির ভিত্তিতেই এনসিটিবি পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।

এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ একে সময়োপযোগী সংশোধন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে সরে আসার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

তথ্যসূত্র: টিবিএস

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement