বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ের প্রায় একটি সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সাধারণ ছুটি, শেষ হয়েছে রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিকতা, শেষের পথে দলীয় শোক কর্মসূচিও।
কিন্তু একটি বিষয় আজও ফুরোয়নি—মানুষের ভালোবাসা। যে ভালোবাসার অদৃশ্য অথচ দৃঢ় সুতায় তিনি বেঁধে রেখেছিলেন দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে।
খালেদা জিয়া ছিলেন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন এক মহীয়সী চরিত্রের প্রতীক। তাঁর জীবন যেন এক দীর্ঘ গল্প—যার প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি অধ্যায়ে ছড়িয়ে আছে দৃশ্যমান শত-সহস্র ঘটনা, সংগ্রাম আর অর্জনের চিহ্ন। প্রশ্ন জাগে, সেই গল্পের কি সত্যিই যবনিকা পড়েছে? রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতেই হয়—শেষ হয়েও যেন শেষ হলো না।
অগণিত মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কবিতা জানাজার ময়দানে এসে যেন মহাকাব্যের রূপ নিয়েছিল। কত মানুষের ঢল নেমেছিল, কত অচেনা মুখ, কত অজানা চোখের জল। তাঁর বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি শুধু কাছের মানুষ নয়, পুরো দেশজুড়েই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যে বিদায় ছিল গৌরবের, যে বিদায় ছিল মর্যাদা আর ঐশ্বর্যের—সেই বিদায়ই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার।
রাজনীতির অলিগলিতে যাদের কোনো দিন পা পড়েনি, তারাও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে গেছেন তাঁর সমাধিতে। কেউ শুধু একটু অনুভব করতে, কেউ দেয়াল ছুঁয়ে দেখতে, কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে, কেউবা নীরবে বসে দোয়া করতে। বেগম জিয়ার সমাধির আঙিনায় প্রতিদিন জমা হচ্ছে অগণিত মানুষের না বলা গল্প, না বলা ভালোবাসা।
ভালোবাসা কখনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। ভালোবাসা অর্জন করতে হয় ভালোবাসা দিয়েই। বেগম খালেদা জিয়া সেই ভালোবাসাই আজীবন বিলিয়ে গেছেন—আর বিনিময়ে নিয়েছেন মানুষের নিঃস্বার্থ হৃদয়ভরা ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা নিয়েই তিনি বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু স্মৃতির ভেতর দিয়ে আজও তিনি রয়ে গেছেন অমলিন।


































