সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের আগেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে আপাতত আশার কোনো ইঙ্গিত নেই।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্পষ্ট করে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটিই বাস্তবসম্মত।
গভর্নরের এই বক্তব্যে নতুন পে স্কেলের অপেক্ষায় থাকা কয়েক লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনাও।
এ বিষয়ে শনিবার (১০ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কী বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়। তিনি জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে কি না—সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এ সংক্রান্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে। পে স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নবম পে স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে নাকি কেবল কাঠামো প্রস্তুত করে দিয়ে যাবে—সে বিষয়ে তিনি সময়মতো নিজেই স্পষ্ট করবেন।
এদিকে জানুয়ারি মাস থেকেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। এর অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৩টায় ১২টি কর্মচারী সংগঠন ও দপ্তরভিত্তিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে জোটের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, চলতি জানুয়ারির মধ্যেই নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এই দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সব জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।

































