মাচাদোর সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগির প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি!

মাচাদোর সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগির প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি! ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৪৯, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার অর্জিত নোবেল পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ভেনেজুয়েলার এই বিরোধী নেত্রীর এমন প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেও।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি শুনেছেন যে আগামী সপ্তাহে মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের জন্য তিনি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন বলেও মন্তব্য করেন। মাচাদো তার নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে ‘উপহার’ হিসেবে দিতে চান—এমন কথা শুনে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের হবে।

তবে এই ‘নোবেল ভাগাভাগি’র উদ্যোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ও নোবেল ইনস্টিটিউট শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষিত হলে তা আর ভাগ করা, হস্তান্তর করা বা অন্য কারও নামে দেওয়া সম্ভব নয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নোবেল পুরস্কার কোনোভাবেই হাতবদলযোগ্য নয় এবং এ নিয়ম চূড়ান্ত ও সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য।

এই নাটকীয় নোবেল বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনায় কিছুটা শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে তাদের একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে যাবে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলা বিষয়ক মার্কিন ইউনিটের কূটনীতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একটি দল ইতোমধ্যে কারাকাসে পৌঁছেছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ ও ‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করতে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদ্য শপথ নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনগামী প্রতিনিধিদলে থাকবেন কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর কিংবা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মাচাদো। তার ভাষায়, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মাদুরো দম্পতিকে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন, সে জন্য ভেনেজুয়েলার জনগণ কৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি নিজের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মাচাদোর নাম ঘোষণা করা হলেও, এরপর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। মাদুরোর শাসনামলের শেষ দিকে আত্মগোপনে থাকায় নরওয়ের অসলোতে তার পক্ষে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন তার মেয়ে।

সবশেষে, এত কিছুর পরও মাচাদোর নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্প যে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নেতা দেলসি রদ্রিগেজের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রই এখন ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ ‘পরিচালনা’ করবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement