ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, তাদের অত্যন্ত প্রিয় ও স্নেহের সন্তান, রাজপথে পরীক্ষিত সাহসী সহযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাত আজও তাদের হৃদয়ে গভীর বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো—মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের পরও এই নির্মম ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তরা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা, দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা নিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জামায়াত আমির আরও লেখেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে দেশের ভেতরে অবস্থান করছে, নাকি সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে গেছে—এই বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বা অস্পষ্টতার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। যদি তারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। তার মতে, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে, যা রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
পোস্টের শেষাংশে শফিকুর রহমান লেখেন, একজন শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার ও প্রশাসনের কাছে তিনি অবিলম্বে দৃশ্যমান, কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান।
































