চোখ লাফানো মানে কী? জানুন সত্যিকারের কারণ

চোখ লাফানো মানে কী? জানুন সত্যিকারের কারণ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৫০, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

হঠাৎ চোখের পাতা কাঁপতে বা লাফাতে শুরু করলেই অনেকের মনে অজানা এক শঙ্কা ভর করে। বুকের ভেতর কেমন যেন একটা ভয় কাজ করে—এর মানে কি সামনে কোনো অশুভ ঘটনা অপেক্ষা করছে? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই বিশ্বাস আমাদের সমাজে আজও বেশ গভীরভাবে প্রোথিত।

কিন্তু বাস্তবে চোখ লাফানো কি সত্যিই ভবিষ্যতের কোনো সংকেত বহন করে, নাকি এটি শরীরের স্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বিজ্ঞান ভিন্ন কথাই বলে।

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চোখের পাতা কাঁপা নিয়ে নানা ধরনের বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্রে চোখ লাফানোকে ভবিষ্যতের ভালো বা খারাপ ঘটনার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—এমন ধারণায় অনেকেই বিশ্বাস করেন। অঞ্চল, সংস্কৃতি ও ধর্মভেদে এসব বিশ্বাসের রূপ কিছুটা ভিন্ন হলেও মূল ভাবনাটি প্রায় একই। আমাদের সমাজে তো বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে—এখানে নারী ও পুরুষের জন্য চোখ লাফানোর ব্যাখ্যাও আলাদা করে দেখা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ডান চোখ লাফালে পুরুষদের জন্য তা সৌভাগ্যের লক্ষণ, আর নারীদের জন্য দুর্ভাগ্যের ইঙ্গিত। আবার বাম চোখ লাফালে পুরুষদের জন্য দুর্ভাগ্য এবং নারীদের জন্য সৌভাগ্য—এমন বিশ্বাস বহুদিন ধরে চলে আসছে।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এইসব ধারণার সঙ্গে একমত নয়। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, চোখ লাফানো আসলে চোখের পাতার সূক্ষ্ম পেশিতে হঠাৎ খিঁচুনি বা অনিয়ন্ত্রিত সংকোচনের ফল। এর সঙ্গে কোনো অলৌকিক বার্তা বা ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসের সম্পর্ক নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক একটি সমস্যা এবং গুরুতর কোনো অসুখের লক্ষণ নয়। অনেক সময় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই এটি নিজে থেকেই সেরে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ লাফানোর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ কাজ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, বেশি পরিমাণে চা বা কফি পান—এসবই চোখের পাতায় খিঁচুনি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাসও চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা এই সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, যদি হঠাৎ চোখের পাতা কাঁপতে শুরু করে বা কয়েকদিন ধরে বারবার লাফাতে থাকে, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাত্রার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, নিয়মিত পানি পান করা, চা-কফির মতো উত্তেজক পানীয় কমানো এবং কাজের ফাঁকে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া—এই সহজ অভ্যাসগুলোই চোখ লাফানোর সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, চোখ লাফানো নিয়ে সমাজে যত রকম কুসংস্কারই প্রচলিত থাকুক না কেন, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কোনো অশুভ সংকেত নয়। বরং এটি শরীরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ধরনের সতর্ক বার্তা—যেন নিজের প্রতি একটু যত্ন নেওয়া হয়, বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং ব্যস্ততার মাঝেও শরীরের প্রয়োজনগুলো উপেক্ষা না করা হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement